শামসুল আলম শারেক, টেকনাফ ( কক্সবাজার)।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপি’র আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৩১৪ ক্যান হান্টার বিয়ারসহ ০১ জন মাদককারবারীকে আটক করেছে। এ সময় অপর ০১ জন মাদককারবারী ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।

০২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ শিলবুনিয়া এলাকায় নুর কবিরের বসতবাড়িতে খুচরা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য মজুদ রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় নাজিরপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ শিলবুনিয়া এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবি’র আভিযানিক দল আনুমানিক ২০৩০ ঘটিকা হতে উক্ত এলাকায় গোপনে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

৩। পরবর্তীতে আনুমানিক ২১৩০ ঘটিকায় বিজিবি’র আভিযানিক দল শিলবুনিয়া এলাকায় নুর কবিরের বসতঘর ও এর আশপাশের এলাকা কৌশলগতভাবে ঘিরে ফেলে। এ সময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে নুর কবির ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়। তবে বসতঘর হতে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে মোঃ সেলিম (৩৫)-কে আভিযানিক দল আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উক্ত বসতঘরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে ৩১৪ ক্যান হান্টার বিয়ার এবং ০১টি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত মালামালের বিবরণ নিম্নরূপঃ

ক। হান্টার বিয়ার-৩১৪ ক্যান।

খ। বাটন মোবাইল ফোন-০১টি।

সর্বমোট আনুমানিক সিজার মূল্যঃ ৭৯,০০০/- (ঊনআশি হাজার) টাকা।

আটককৃত আসামির বিস্তারিত পরিচয় নিম্নরূপঃ

ক। মোঃ সেলিম (৩৫), পিতা-মৃত লাল মোহাম্মদ, মাতা-মৃত ছকিনা খাতুন, গ্রাম-শিলবুনিয়াপাড়া, পোস্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।

পলাতক আসামির বিস্তারিত পরিচয় নিম্নরূপঃ

ক। নুর কবীর (৩০), পিতা-মৃত লাল মোহাম্মদ, মাতা-মৃত ছবিরা খাতুন, গ্রাম-শিলবুনিয়াপাড়া, পোস্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।

৪। অধিনায়ক, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) বলেন, বিজিবি সদস্যদের গোয়েন্দা তৎপরতা, পরিকল্পিত অবস্থান গ্রহণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কৌশলগত অভিযানের ফলে মাদকদ্রব্যের অবৈধ মজুদ ও বিক্রয়ের অপচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, অবৈধ মজুদ ও সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদককারবারীরা বসতবাড়িসহ যেকোনো স্থানকে মাদক মজুদের কাজে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালালেও বিজিবি’র গোয়েন্দা নজরদারি, পরিকল্পিত অভিযান এবং আভিযানিক সক্ষমতার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে। দেশ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।”

৫। আটককৃত আসামি ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য মালামাল টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।###