(লালমনিরহাট) প্রতিনিধি: মোঃ মফিজুল ইসলাম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের প্রধানবাড়ি এলাকায় স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে দুই সন্তানের এক জননী গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী শাহীন ওই গৃহবধূকে নির্মমভাবে মারধর করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে গৃহবধূ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী শাহীন পলাতক রয়েছেন।

​"আমার বউ খুব ভালো, ও কোনো অপরাধ করেনি"— আর্তনাদ শাশুড়ির

​ঘটনার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত গৃহবধূর শাশুড়ি (শাহীনের মা)। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, "আমার বউ কোনো খারাপ না। পাড়াপড়শী সবাই জানে আমার বউ ওরকম না। তাকে কী কারণে হত্যা করবে? আমি ওই রকম সোনার বউ আর পাবো না! ওর জায়গায় আল্লাহ আমার জানটা নিয়ে নিক।"

​তিনি আরও দাবি করেন, গত কয়েকদিন ধরে ওই গৃহবধূর জ্বর-সর্দি ও বুকে ব্যথা ছিল। তার শ্বশুর চিকিৎসার জন্য ১,০০০ টাকা দিয়েছিলেন এবং পরে আরও ১,০০০ টাকা দিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ডাক্তার ১৫ দিন পর দেখাতে বললেও সেই সময় আসার আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বড় ধরনের ঝগড়া বা বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

​প্রশাসনের তৎপরতা

​ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাটগ্রাম থানা পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয়রা অভিযুক্ত স্বামী শাহীনকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

​পুলিশ জানিয়েছে, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে। বর্তমানে এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।