মোঃ মফিজুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সারের সংকট ও সময়মতো সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

কৃষকদের অভিযোগ, জমি চাষ করে আগাম ভুট্টা রোপণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না তাঁরা। অথচ তাঁদের দাবি, কয়েক দিনের ব্যবধানে এলাকায় একাধিক ট্রাক সার এসেছে। এরপরও ডিলারদের কাছ থেকে সার না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

বিক্ষুব্ধ কৃষকরা জানান, প্রায় ১০ দিন আগে জমি চাষ করে ভুট্টা রোপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন তাঁরা। কিন্তু সার সংগ্রহ করতে গিয়ে বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, সার দেওয়ার কথা থাকলেও ডিলাররা বিভিন্ন অজুহাতে তা পিছিয়ে দিচ্ছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, আগের দিনগুলোতে একাধিক গাড়ি সার এলাকায় প্রবেশ করলেও তাঁরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। এতে সার বিতরণব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আগাম ভুট্টা চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

তিস্তার চরাঞ্চলে আগাম ভুট্টা চাষ কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। নির্দিষ্ট সময়ে ভুট্টা রোপণ করতে না পারলে পরবর্তী সময়ে বন্যার পানি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার না পেলে ভুট্টা রোপণে দেরি হবে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তাঁরা। তাই দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।

ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কৃষকদের একাংশের অভিযোগ, কিছু ডিলার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগসাজশে কৃষকদের কাছে সরাসরি সার বিক্রি না করে খুচরা দোকানে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সার বিতরণ না করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

এ ছাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সার দেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।

তবে সার সিন্ডিকেট, মজুতদারি কিংবা বেশি দামে সার বিক্রির এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও কৃষি বিভাগের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার

পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তা। তাঁরা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন।

এ সময় ইউএনও কৃষকদের মহাসড়ক ছেড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সার সংগ্রহের অনুরোধ জানান। পরে কৃষকরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

কৃষকদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সার বিতরণে কোনো অনিয়ম, মজুতদারি কিংবা অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঘটনা ঘটছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কৃষি মৌসুমে বারবার সারের জন্য কৃষকদের কেন ভোগান্তিতে পড়তে হবে? সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলে কৃষকরা সার পাচ্ছেন না কেন? এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।