ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি।

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন ঈদগাঁও উপজেলা শাখার উদ্যোগে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত ঈদগাহ রশিদ আহমদ কলেজ ক্যাম্পাসে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার মোট ৩১৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অনুপস্থিত থাকে ১৩ জন। ১৮১ জন ছাত্র ও ১৪৭ জন ছাত্রী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশ, পড়াশোনায় আগ্রহ বৃদ্ধি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে সীমিত পরিসরে এ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেয় উপজেলার ১৪ টি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কক্ষ পর্যবেক্ষক ছিলেন ২১ জন। দুইটি ভবনের মোট আটটি কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভবন দুটি হচ্ছে অনার্স ভবন ও আইসিটি ভবন। এতে মোট ৭৮ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সহকারী পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ ছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজারের দুইজন অধ্যাপক।

পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম শিফাতুল মাজদার, ঈদগাঁও উনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলহাজ আবু সিদ্দিক, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার রূপস পাল, পোকখালী ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক জিয়াউল করিম, শিক্ষক আব্দুল হামিদ, ঈদগাঁও প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শেফাইল উদ্দিন, মনির আহমদ প্রমুখ।

পরীক্ষা পরিচালনা সম্পর্কিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন নুর মোস্তফা কামাল সাদেক, এম, জয়নাল আবেদীন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ শাহজাহান, বদিউল আলমসহ অন্যান্যরা।

বেসরকারি এ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার আয়োজক বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন ঈদগাঁও উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।

সংগঠনের উপজেলা শাখার সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর বাঙালি জানান, পরীক্ষা পরিচালনা, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিয়ে বিভিন্ন কমিটি ও উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

সদস্য সচিব মিসবাহুর রহমান জানান, এ ধরনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহ জোগাবে। পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ঈদগাঁও উপজেলায় আয়োজিত এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।