মো: শিহাব উদ্দিন শেখ, বিশেষ প্রতিনিধি।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চতুর্থ দিনে এসে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, চাকরির নিরাপত্তা, ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্তির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর ও জিরাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। আটক করা হয়েছে অন্তত ১৩ জনকে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরিতে দ্রব্যমূল্য ও বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের ছাঁটাই এবং অন্য কারখানায় চাকরি পেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত ১ নভেম্বর নিশ্চিন্তপুরের নিউ এজ গ্রুপের কয়েকটি কারখানায় কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি।
পুলিশের দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি তাদের সহযোগিতা রয়েছে। তবে একটি পক্ষের ইন্ধনে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। যদিও তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে আশুলিয়ার শ্রমিক আন্দোলন এখন শুধু মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাকরির নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার ও কর্মপরিবেশের প্রশ্ন।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ, মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনা এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানই এখন শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রধান চ্যালেঞ্জ।